জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গত সাড়ে ছয় বছরে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে কমিশন প্রায় ৯৮ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মোট ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি আবেদনের বিপরীতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি, অসঙ্গতি কিংবা অন্যান্য কারণে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আবেদনগুলোর শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ আবেদনই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত ‘ক’ শ্রেণিতে জমা পড়েছে, যার সংখ্যা ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি। এছাড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘খ’ শ্রেণিতে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ‘গ’ শ্রেণিতে ৬ লাখ ২ হাজার ৭১৭টি এবং এনআইডি মহাপরিচালকের ‘ঘ’ শ্রেণিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন জমা হয়েছে। এছাড়া সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘ক-১’ শ্রেণিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭২টি এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘খ-১’ শ্রেণিতে ১ লাখ ১০ হাজার ১০টি আবেদন রয়েছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চাকরি ও বিদেশযাত্রাসহ জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই দ্রুত এনআইডি সংশোধনের আবেদন করে থাকেন। যথাযথ কারণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে এসব আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অসৎ উদ্দেশ্য বা ভুয়া তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করা হয়।
এদিকে, এনআইডি সংশোধন সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিশন আশা করছে, এই কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের জন্য এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়াটি আরও সহজতর হবে।

