মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক যেন তারকা ফুটবলার নেইমারের নিত্যসঙ্গী। কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচে সান্তোসের জয় নিশ্চিত করার দিনেই আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। রেমোকে ১-০ গোলে হারিয়ে সান্তোস শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করলেও, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর প্রতিপক্ষ ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
মাঙ্গেইরাও স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে নেইমারকে। খেলার শুরু থেকে বিরতির পর মাঠে নামার সময় পর্যন্ত রেমোর সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত বিদ্রূপ ও দুয়োর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তবে সমস্ত মানসিক চাপ উপেক্ষা করে মাঠের খেলায় নিজের দক্ষতা ফুটিয়ে তোলেন নেইমার। তার চমৎকার পাস থেকেই রনি রুস্তিকো সান্তোসের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন।
ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে শেষ বাঁশি বাজার পরের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে নেইমারকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রেমোর বিদ্রূপের জবাবে নেইমার বারবার ‘বিদায় নিয়েছো’ বলে চিৎকার করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, বিদ্রূপাত্মক নাচ এবং জিহ্বা বের করে প্রতিপক্ষকে খেপিয়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করিডোরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং রেমোর সমর্থক ও কর্মকর্তারা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত সান্তোসের নিরাপত্তা কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা (তোনিয়াও) নেইমারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নেইমারকে ‘অসামাজিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সান্তোসের এমন আচরণের প্রয়োজন ছিল না। আর অসামাজিক নেইমার, যাকে অনেক শিশু আদর্শ মানে, সে এখানে এসে আমাদের উসকানি দিয়েছে। এমন মানুষদের আদর্শ বানানো সত্যিই দুঃখজনক।’ মাঠে অ্যাসিস্ট করে দলকে জেতালেও মাঠের বাইরের এই ঘটনায় নেইমারের ক্যারিয়ারে নতুন একটি বিতর্কের অধ্যায় যুক্ত হলো।

