হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরানের চুক্তি

ইরান জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বাকেই জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলবে না। কারণ হিসেবে তিনি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছেন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানিয়েছেন, নতুন এই পথটি অস্থায়ী হবে এবং এটি দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা থাকতে পারে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বাকেই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার কারণগুলো এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ এবং অন্যান্য আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রণালিটি খুব শিগগিরই খুলে না দেওয়া হলে ইরান ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর পণ্যমূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি করছে ইরান। ওমান এ বিষয়ে ৩ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন কোনো শুল্ক আরোপের বিরোধী। এই প্রস্তাবিত চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত