মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বোর্ড অব পিস গাজা পুনর্গঠনের জন্য তাদের প্রথম নির্মাণচুক্তি চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তবে এই উদ্যোগের অধীনে গাজায় কোনো ঘরবাড়ি বা মানবিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে প্রথম প্রকল্প হিসেবে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জানুয়ারিতে গাজা পুনর্গঠনের তদারকির জন্য এই বোর্ডটি গঠন করেন ট্রাম্প, যার চেয়ারম্যান পদে তিনি নিজেই রয়েছেন। বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের সংগঠন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর সাথে কয়েকটি নির্মাণচুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এখনো কোনো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। সম্ভাব্য একটি চুক্তি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-এর জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত, যারা গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
এই উদ্যোগের সময় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা করলেও, হামাস কীভাবে অস্ত্র জমা দেবে তা এখনো অস্পষ্ট। অন্যদিকে ইসরাইল এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে এবং ট্রাম্পের ঘোষণার পর গাজায় বিমান হামলাও জোরদার করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন দক্ষিণ গাজায় একটি ছোট পাইলট প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০০ মিটার বাই ১২০ মিটার আয়তনের এই ঘাঁটিতে মরক্কোর সেনাদের একটি ছোট দল অবস্থান করবে, যারা ইসরাইলি ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। ঘাঁটিটি এমন এলাকায় নির্মিত হবে যার প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার পরিস্থিতিতে সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
জাতিসংঘ অনুমোদিত পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর কথা থাকলেও এর আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মরক্কো সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা মোতায়েনের তারিখ নির্ধারিত নেই। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, ১৫০ সদস্যের এই ঘাঁটিটি ভবিষ্যতে পাঁচ হাজার সদস্যের বড় সামরিক ঘাঁটিতে রূপান্তর করার প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় সেনাদের জন্য তাঁবু, খাট, রাসায়নিক শৌচাগার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষামূলক মাটির বাঁধ তৈরির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা স্বল্পমেয়াদী অবস্থানের উপযোগী।

