ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই দুঃখজনক খবরটি জানিয়েছে।
লিওনেল মেসি বিশ্ব ফুটবলের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লিখিয়েছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী সব অর্জনে। স্প্যানিশ লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৫০ গোল এবং ইউরোপীয় ফুটবলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৭৩ গোল করার রেকর্ড তাঁর দখলে। এছাড়া এক বর্ষপঞ্জিতে সর্বোচ্চ ৫১ গোল এবং এল ক্লাসিকোতে ২৫ গোল করার রেকর্ডও তাঁর। গোল করার পাশাপাশি প্লেমেকার হিসেবেও সমান দক্ষ মেসি, লা লিগায় সর্বোচ্চ গোল সহায়তার রেকর্ডটিও তাঁর নামের পাশে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ইতোমধ্যে ৬০০ ছাড়িয়েছে।
মেসির শৈশব ও ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা ছিল বেশ সংগ্রামের। ছোটবেলায় গ্রোথ হরমোন সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি, যার চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনা তাঁকে তাদের যুব একাডেমিতে নিয়ে আসে। প্রচলিত আছে যে, তৎকালীন পরিচালক মেসির ট্রায়াল দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, হাতের কাছে কাগজ না পেয়ে নিজের রুমালের ওপরই চুক্তিপত্র লিখে ফেলেছিলেন। ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালের অক্টোবরে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক হওয়ার পর দ্রুতই তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের আলো ছড়ান। ২০০৬ বিশ্বকাপের আগেই তারকাখ্যাতি পেলেও ২০০৭ সাল থেকে মূলত তাঁর আসল উত্থান শুরু হয়, যখন তিনি ব্যালন ডি'অর ও ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের শীর্ষ তিনে জায়গা করে নেন।
ব্যক্তিজীবনে মেসি দীর্ঘদিনের বান্ধবী আন্তোনেয়া রোকুজ্জোকে ২০১৭ সালের জুনে বিয়ে করেন। ৫ বছর বয়স থেকে পরিচিত এই দম্পতির তিন ছেলে রয়েছে—থিয়াগো (জন্ম ২০১২), মাতেও (জন্ম ২০১৫) এবং চিরো (জন্ম ২০১৮)। ক্যারিয়ারে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ইউনিসেফ ও নিজের মেসি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দাতব্য কাজের সঙ্গে যুক্ত মেসি শিশুদের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ক্যারিয়ারে কিছু বিতর্কেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে; স্পেনে কর ফাঁকির দায়ে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে রেফারিতে গালি দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা ভোগ করা এর মধ্যে অন্যতম। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রায় একার জাদুতে আর্জেন্টিনাকে চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

