তীব্র আর্থিক সংকট ও প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিউআই)। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে চলতি বছরের পুরুষদের সুপার৫০ এবং নারীদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ টুর্নামেন্ট।
সিউআই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের ১২ মাসের চুক্তি বহাল থাকলেও তাদের পারিশ্রমিক একচতুর্থাংশ কমানো হবে। অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য সাত মাসের রিটেইনার চুক্তি চালু করা হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার যুগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা এই পদক্ষেপে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
সিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডিহরিং এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক রিটেইনার চুক্তি ১২ মাসই থাকছে, তবে ফি ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুধাবন করে যে সহযোগিতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। আদর্শ পরিস্থিতি না হলেও আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনে এটি একটি জরুরি পদক্ষেপ।
ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের উচ্চ অপারেশনাল ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে পুরুষদের সুপার৫০ এবং নারীদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ স্থগিত করেছে বোর্ড। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ ওয়ানডে দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে নির্ধারিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে এটি বড় ধাক্কা।
ক্রিস ডিহরিং আরও জানান, বিগত ১৫ বছরে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের পেছনে ঘরোয়া এয়ারলাইন্সগুলোকে ৮০ মিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অথচ এর বিনিময়ে কোনো স্পন্সরশিপ পাওয়া যায়নি। এই আর্থিক বোঝা এবং ক্রমাগত লোকসানের কারণে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের জন্য পুরুষ দল প্রস্তুত করার ওপর এখন প্রধান মনোযোগ দেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর মাসে ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ এবং এরপর একটি ওয়ানডে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং ২০২৭ সালের পান আমেরিকান গেমসকে সামনে রেখে নতুন এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের সুপার৫০ টুর্নামেন্টের সেরা চার দল পান আমেরিকান গেমসের টি-টোয়েন্টি ইভেন্টের জন্য ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং টি-টোয়েন্টি ব্লেজের শীর্ষ চার দল নারীদের ইভেন্টে অংশ নেবে।
ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো স্থগিত হওয়ায় অলিম্পিকের জন্য বিকল্প বাছাইপর্বের আয়োজন করবে বোর্ড। এই প্রতিযোগিতার খরচ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় ক্রিকেট ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, সরকার এবং বেসরকারি খাতের ওপর ন্যস্ত থাকবে। বাছাইপর্বের বিজয়ী দলগুলো ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট পেতে আইসিসি অলিম্পিক কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে।
নারীদের ঘরোয়া কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী বছরের উইমেন্স সুপার৫০ টুর্নামেন্টের পরিবর্তে একটি বেস্ট ভার্সেস বেস্ট ডেভেলপমেন্ট টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। তবে চার দিনের দ্বিপক্ষীয় ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপ যথারীতি চালু থাকবে।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কার্লোস ব্রাফেটের সেই ঐতিহাসিক চার ছক্কার প্রসঙ্গ টেনে ক্রিস ডিহরিং বলেন, আমাদের এই প্রকল্পগুলোতে সাহসী ও হিসাব করা ঝুঁকি নিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটেও আমাদের এমন একটি মুহূর্ত এসেছে যেখানে বিজয়ী হতে হলে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবাইকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নতুন শক্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

