লুকাস কুবলারের জোড়া গোলে স্পোর্টিং ব্রাগাকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে এসসি ফ্রাইবুর্গ। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে অ্যাস্টন ভিলার। এটি ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠার গৌরব।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক ফ্রাইবুর্গ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রথম লেগের পিছিয়ে থাকা ফ্রাইবুর্গ ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটের মাথায় বড় সুবিধা পেয়ে যায়। ব্রাগার উইঙ্গার মারিও ডরগেলেস ফাউল করলে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে সফরকারী ব্রাগা দশ জনের দলে পরিণত হয়। এর আগে প্রথম লেগে ডরগেলেসের গোলেই ব্রাগা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ভাগ্য সহায় হয় ফ্রাইবুর্গের। ব্রাগার ডিফেন্ডার ভিক্টর কারভালহোর ক্লিয়ারেন্স বলটি লুকাস কুবলারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে লিড পায়। এরপর প্রথমার্ধের শেষ দিকে জোহান মানজাম্বি তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি এক নিখুঁত বাঁকানো শটে গোল করেন, যা ফ্রাইবুর্গকে দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে দেয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রাইবুর্গ আরও আধিপত্য বজায় রাখে। তবে ব্রাগার গোলরক্ষক লুকাস হর্নিচেক অসাধারণ কিছু সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ৬৮তম মিনিটে তিনি একটি অবিশ্বাস্য ডাবল সেভ করে সফরকারীদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৬৮তম মিনিটে ভিনসেঞ্জো গ্রিফোর ফ্রি-কিক থেকে কুবলারের হেডে গোল করলে ফ্রাইবুর্গ ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং দুই গোলের নিরাপদ ব্যবধান নিশ্চিত করে।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে পাউ ভিক্টর একটি গোল করে ব্রাগার হয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রাইবুর্গ ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ব্রাগা সমতায় ফেরার দুটি সুযোগ পেলেও ফ্রাইবুর্গের গোলরক্ষক নোয়াহ আতুবেলু দুর্দান্ত দক্ষতায় তা রুখে দেন।
ম্যাচ শেষে গোলদাতা লুকাস কুবলার এই জয়কে তার জীবনের ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো’ মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়ে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল অবিশ্বাস্য। আমাদের সমর্থকরাই আমাদের আজকের এই জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’
২০১৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী জার্মান ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস গিন্টার এই ম্যাচটিকে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হোম ম্যাচ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি অপেক্ষা করছে। আমরা ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, ফ্রাইবুর্গ এর আগে কখনো কোনো বড় ট্রফি জেতেনি বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেনি। ইস্তাম্বুলে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে জয় পেলে তারা একই সাথে শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে।
এই পরাজয়ের ফলে ব্রাগার ২০১১ সালের পর পুনরায় ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ফ্রাইবুর্গের আল্ট্রা সমর্থকরা মাঠে নেমে আসেন এবং ২০২২ সালের জার্মান কাপের পর ক্লাবের দ্বিতীয় বড় ফাইনালে ওঠার আনন্দ উদযাপন করেন।

