অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়: বাংলাদেশ পেল প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সফরকারী দল। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায়। এই ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম ১০১ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন।

ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে জয়ের পথ সহজ করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ব্যাট হাতে ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেন। এই অর্জনের মাধ্যমে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মিরাজ। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রানের সেঞ্চুরি করলেও মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে স্বাগতিকরা মাত্র ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়।

জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ২৫ ও মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

চতুর্থ দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে খেলতে নেমে মিরাজের তোপের মুখে পড়ে। লাঞ্চের আগেই মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারি (৩০), ওয়েবস্টার (৫) ও প্যাট কামিন্সকে (৮) আউট করে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। এরপর মিচেল স্টার্ক ১৮ রান করে তাসকিনের বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন।

দলের বিপর্যয়ের মুখে ক্যামেরন গ্রিন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেও শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন। এরপর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে মিরাজ নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান।

এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে।

তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে।

কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে।

৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে।

এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।

চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ।

৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে।

এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে।

স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন।

দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন।

টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়।

কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।