অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়: নাজমুল শান্তর দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেটবিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ, যা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই দাপুটে জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভাসছে টাইগাররা।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ, বাহ!’। শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড এই অর্জনকে মহাকাব্যিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে তাদের নিজেদের কন্ডিশনে হারানো অবিশ্বাস্য। ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফর এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ড্যামিয়েন ফ্লেমিংয়ের মতে, ডারউইনের এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে থাকবে।

শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আইসিসির প্রস্তাবিত ‘দুই স্তরের টেস্ট ব্যবস্থা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের এই জয়কে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, এটিই সেই ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার মোক্ষম কারণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ দলের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের প্রাপ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ইয়ান বিশপ এই অর্জনকে যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মেহেদী ও তানজিদের অবদানের পাশাপাশি হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। বিশপের মতে, কোচ ফিল সিমন্স ও তার দলের জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত এবং এখন বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এসেছে।

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন যে, এই জয় টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সঠিক ভেন্যু নির্বাচনের গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করেছে। ডারউইনের কন্ডিশন যে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকেও চমকে দিয়েছে, তা তাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট। সব মিলিয়ে, নাজমুল হোসেন শান্তর দলের এই ঐতিহাসিক জয় বিশ্ব ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।