রবিবার রাবাতে অনুষ্ঠিত নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (WAFCON) ফাইনালে মালাউইকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতল ক্যামেরুন। এর আগে ২০০৪, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালের ফাইনালে নাইজেরিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ক্যামেরুন। এবারের আসরে ক্যামেরুনের এই জয় সরাসরি মাঠে বসে উপভোগ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যার সাথে ছিলেন কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের সভাপতি প্যাট্রিস মোসেপে এবং প্রথম সহ-সভাপতি ফৌজি লেকজা।
ক্যামেরুনের এই জয়যাত্রা ছিল বেশ নাটকীয়। চূড়ান্ত বাছাইপর্বে আলজেরিয়ার কাছে ঘরের মাঠে এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল তারা। তবে আয়োজকরা দলের সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করায় দ্বিতীয় সুযোগ পায় ক্যামেরুন। বাছাইপর্বে বাদ পড়া সেরা চারটি দলের একটি হিসেবে তারা মরক্কোতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেয়।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৫৩তম স্থানে থাকা মালাউই এবারের আসরে রূপকথার মতো পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। তাদের এই যাত্রায় চাউইঙ্গা বোনদের—অধিনায়ক তাবিথা এবং তেমওয়া—ভূমিকা ছিল অপরিসীম, যারা টুর্নামেন্টে মোট নয়টি গোল করেছিলেন। নাইজেরিয়া, মিশর, ঘানা এবং আলজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।
ম্যাচের শুরুটা বেশ দারুণ করেছিল মালাউই। তাদের গতি এবং শক্তির কাছে ক্যামেরুনকে কিছুটা চাপে পড়তে দেখা গিয়েছিল। তবে মালাউই গোল করতে ব্যর্থ হয় এবং সময় গড়ানোর সাথে সাথে ক্যামেরুন নিজেদের গুছিয়ে নেয়। ২০তম মিনিটে ক্যামেরুন প্রথম গোলটি পায়। একটি ক্রস মালাউই গোলরক্ষক মার্সি সিকিলোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আঘাত করলে ফিরতি বল থেকে মারি এনগাহ হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়ান।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ক্যামেরুন তাদের ব্যবধান দ্বিগুণ করে। নাওমি ইতো গোলপোস্টের দিকে পিঠ রেখে দারুণভাবে ঘুরে গিয়ে বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মারি এনগাহ আবারও গোল করেন। ইতো’র ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ক্যামেরুন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মারি এনগাহ হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়েছিলেন। গোলরক্ষক সিকিলোকে কাটিয়ে বল জালে জড়ানোর সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে, মালাউই দ্বিতীয়ার্ধে ক্যামেরুনকে কিছুটা আটকে রাখতে সক্ষম হয়। তেমওয়া চাউইঙ্গা গোলমুখে একটি জটলা থেকে শট নিলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমে ক্যামেরুন, মালাউই, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী আলজেরিয়া এবং স্বাগতিক মরক্কো ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি ক্যামেরুনের ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।
এদিকে, ক্যাফ (CAF) নেতৃত্ব ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ইনফান্তিনো বর্তমানে তার চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে আছেন, কারণ বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
আফ্রিকান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ভবিষ্যতে ছয়টিতে উন্নীত হতে পারে। ডব্লিউএএফসিওএন (WAFCON)-এর কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ঘানা ইতিমধ্যে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

