ইতালির রোমে একটি কনসার্ট সম্পন্ন করার পর জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘নগরবাউল’-এর প্রধান জেমস এবং তার সফরসঙ্গীরা নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টের কক্ষ তারা অত্যন্ত নোংরা ও অগোছালো অবস্থায় রেখে রিসেপশনে কোনো তথ্য না দিয়েই চলে গেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিচ্ছন্নতা ফি দাবি করেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজক প্রতিনিধিকে বার্তা পাঠিয়ে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হোটেলটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই ২০০ ইউরো বাড়তি ফি পরিশোধের শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, হোটেলের একটি কক্ষের মেঝেতে পানির বোতল, পলিথিন এবং ডাইনিং টেবিলে খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে আছে। এমনকি রান্নাঘরের সিঙ্কেও নোংরা থালা-বাসন ও ভেঙে পড়া কাঁচা ডিমের অবশিষ্টাংশ দেখা গেছে। তবে এসব অভিযোগকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। তিনি হোটেল ছাড়ার সময় না জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, জেমস ও তার টিম মোট চারটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে এবং রবিন নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে অন্য একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
হোটেল সংক্রান্ত বিতর্কের পাশাপাশি জেমসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইতালির কনসার্ট আয়োজক হোসাইন আহমেদ মোয়াজ। তার দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির হিসাব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং রবিন সেই হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এছাড়া অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে পাচারের মতো বিস্ফোরক অভিযোগও এনেছেন আয়োজক।
অর্থনৈতিক লেনদেন ও হুন্ডি সংক্রান্ত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেমস কিংবা তার ম্যানেজার রবিনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে একজনের কক্ষের ব্যক্তিগত অবস্থার দায় কোনোভাবেই জেমসের ওপর বর্তায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

