দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে অর্থায়নের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত শুক্রবার জানিয়েছে যে, দক্ষিণ কোরিয়াকে এআইএম-৯ এক্স সাইডউইন্ডার ব্লক-২ ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অস্ত্র চুক্তির আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সিউল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে বোঝাতে ‘আরওকে’ (ROK) শব্দটি ব্যবহার করে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। পিয়ংইয়ং বা ‘ডিপিআরকে’ (DPRK) কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উত্তর কোরিয়ার তথ্যের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করা। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তাদের বৈরী নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, বরং একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন সেই ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উত্তর কোরিয়া বরাবরই উপদ্বীপের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে এবং সাম্প্রতিক এই অস্ত্র সরবরাহ চুক্তিকে তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৫০-৫৩ সালের যুদ্ধের পর শান্তিচুক্তি হয়নি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিয়ংইয়ং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার জবাবে তারা ‘শক্তিশালী জবাব’ দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার এবং তথ্যপ্রবাহ-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের লাখ লাখ ডলার দেওয়ার পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন।

