বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস, বাড়ছে দামের অস্থিরতা

ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিলের (আইজিসি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৬০ লাখ টন কমে ২৪১ কোটি ৫০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন গত বছরের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ টন কমিয়ে ৮১ কোটি ৭০ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুট্টার উৎপাদন ১০ লাখ টন কমে ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টনে এবং যব, জোয়ার ও বার্লিসহ অন্যান্য শস্যের উৎপাদনও প্রায় ১০ লাখ টন হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

উৎপাদন হ্রাসের এই নেতিবাচক প্রভাব আন্তর্জাতিক শস্য বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর বৈশ্বিক শস্য বাণিজ্য ৪৫ কোটি ১০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ কম। এর প্রধান কারণ হিসেবে গম রফতানি ১ কোটি ৩০ লাখ টন কমে যাওয়ার সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সংঘাত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তীব্র আকার ধারণ করায় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে গভীর সমুদ্রবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে গম রফতানি প্রায় ৪০ লাখ টন হ্রাস পেয়েছে।

উৎপাদন ও বাণিজ্যের এই মন্দার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের মজুদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আইজিসির তথ্যমতে, বৈশ্বিক শস্যের মজুদ সাড়ে ৪ শতাংশ কমে ৬০ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সয়াবিনের বাজারে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে; যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে ভালো ফলনের কারণে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের উৎপাদন ৪৪ কোটি ১০ লাখ টন এবং বাণিজ্য ১৯ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে, যা একটি নতুন রেকর্ড। অন্যদিকে, চালের উৎপাদনও ৬০ লাখ টন কমে ৪৪ কোটি ১০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী। জুলাই মাসের তুলনায় আইজিসির শস্য ও তৈলবীজ মূল্যসূচক ৩ শতাংশ বেড়ে গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। গত এক বছরের ব্যবধানে এই সূচকটি প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গম ও সয়াবিনের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ করে বেড়েছে। উৎপাদন কমার পূর্বাভাস এবং মজুদ হ্রাসের এই প্রবণতা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন করে মূল্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাত এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অবশ্য আমদানির চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা সীমিত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেপ্টেম্বরে বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার সিদ্ধান্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।