সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক পেশাদার সুমো প্রতিযোগিতা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আবুধাবির স্পেস৪২ অ্যারেনায় এই অল-স্টার সুমো কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হবে। আবুধাবির সংস্কৃতি ও পর্যটন বিভাগের (ডিসিটি আবুধাবি) আয়োজনে জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি প্রথমবারের মতো আমিরাতের দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
এই প্রতিযোগিতায় জাপান, মঙ্গোলিয়া ও মিশর থেকে আগত নয়জন শীর্ষস্থানীয় রিকিশি অংশ নেবেন। মোট ৩৬টি বাউটে তারা একে অপরের মুখোমুখি হবেন। অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী এবং এম্পেরর’স কাপ বিজয়ী অভিজ্ঞ কুস্তিগীররা, যাদের প্রত্যেকেরই পেশাদার সুমো খেলায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণের পাশাপাশি দর্শকরা সুমোর শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে থাকবে প্রথাগত রিং-এ প্রবেশ প্রক্রিয়া এবং বাউট শুরুর আগের বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। স্পেস৪২ অ্যারেনার জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, আমিরাতে প্রথমবারের মতো পেশাদার সুমো আয়োজন আবুধাবির ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে একটি চমৎকার সংযোজন। এটি দর্শকদের এমন একটি খেলার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ, যার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও গভীর ঐতিহ্য। তিনি আরও বলেন, এই ইভেন্টটি ভক্তদের সুমোকে কাছ থেকে দেখার এবং এই খেলার স্বতন্ত্র পরিবেশ ও ঐতিহ্য আবিষ্কারের এক অনন্য সুযোগ করে দেবে।
প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জাপানের এম্পেরর’স কাপ বিজয়ী ইচি এবং জাপানের অন্যতম বৃহৎ সুমো কুস্তিগীর হিরোকি। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুমোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে থাকছেন মঙ্গোলিয়ার জুনিয়র ওয়ার্ল্ড সুমো চ্যাম্পিয়ন মেন্ডি এবং মিশরের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চ্যাম্পিয়ন রামি এল-গাজার।
পেশাদার মান বজায় রাখতে এবং সুমোর ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই ইভেন্টটি ইউএসএ সুমোর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছে। যদিও পেশাদার সুমো আমিরাতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তবে এই আয়োজন দর্শকদের এমন এক ক্রীড়া ঐতিহ্যের অভিজ্ঞতা দেবে যা এই অঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় না।
রিং-এ প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা, প্রতিটি বাউটের আগের প্রস্তুতি এবং দোহিও বা রিংকে ঘিরে থাকা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এই প্রতিযোগিতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২৬ সেপ্টেম্বর স্পেস৪২ অ্যারেনায় দোহিও তৈরির মাধ্যমে আবুধাবি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, যা দর্শকদের খেলার মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেবে।

