গাজীপুরে মাদক কারবারে নারী সিন্ডিকেট: কোটিপতি হয়ে আলোচনায় আটজন

রাজধানীর খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশের কারণে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য চলছে। এসব এলাকায় ছোট-বড় মাদক কারবারিদের পাশাপাশি নারীদের একটি বড় অংশ সক্রিয়ভাবে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ব্যাংক মাঠ বস্তির মোমেলা বেগম অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি। গাঁজা দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখা মোমেলা বর্তমানে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার কারবারে যুক্ত। গত বছরের ২ নভেম্বর তাঁকে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং মাদক ব্যবসার টাকায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, জমি ও যানবাহনের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই এলাকার ময়না খাতুনও মাদক কারবারে বড় নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও এই ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নার মেয়ে নার্গিস, পুত্রবধূ রোজী এবং ভাই শফিকুল ইসলাম ইয়াবা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ‘বড় আপা’ হিসেবে পরিচিত আফরিনা আক্তার আগে ফেনসিডিলের পাইকারি ব্যবসা করলেও বর্তমানে ইয়াবা ও হেরোইন কারবারে সক্রিয়।

কেরানীরটেক বস্তিতে কুলসুম বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একসময় আর্থিক অনটনে থাকলেও বর্তমানে তিনি রেলওয়ের জায়গা দখল করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। একই এলাকায় কারিমা বেগম নামে আরেক নারী কারবারির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যাকে গত ১৮ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ও লক্ষ্মীপুরা এলাকাতেও নারী মাদক কারবারিদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার ডালিয়া বেগমের জীবনযাত্রায় গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরার তাহমিনা ও আশা স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত। তাঁদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যমতে, এই নারী কারবারিরা একা নন; তাঁদের ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করে। পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় অনেক নারী ও পুরুষ মাদক সংগ্রহ, পরিবহন ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন জানান, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কারবার নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত আট মাসে এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ অনেক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কিছু বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কেবল অভিযান চালিয়ে মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি কারবারের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে তেল নেই, হাজার গাড়ির লংমার্চ কীভাবে: শামা ওবায়েদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কাজে তাঁর স্বামী ও ভাই সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি তাঁর বোন নার্গিসকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি কারবারের অর্থের উৎস, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।