নব্বইয়ের দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহর প্রয়াণের তিন দশক পূর্ণ হলো। ১৯৯৬ সালের এই দিনে আকস্মিকভাবে না ফেরার দেশে চলে যান বাংলা সিনেমার এই অমর নায়ক। তাঁর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধায় প্রিয় বন্ধু ও প্রথম চলচ্চিত্রের সহকর্মীকে স্মরণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সালমানের অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মৌসুমী জানান, তিন দশক আগের সেই মর্মান্তিক বিদায়ের কথা মনে পড়লে আজও তাঁর বুক ভার হয়ে আসে। তিনি বলেন, “প্রিয় বন্ধুকে হারানোর সেই শোক বুকে নিয়ে সেদিন তাকে বিদায় জানাতে হয়েছিল। সময় অনেক গড়িয়েছে, কিন্তু সালমানের স্মৃতি একটুও মলিন হয়নি। তাকে ভুলে থাকা আসলে অসম্ভব।” ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সালমানের ক্যারিয়ারের সেই সোনালী সময়ের কথা স্মরণ করে মৌসুমী বলেন, অসাধারণ অভিনয়শৈলী আর নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে খুব অল্প সময়েই সে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল।
সালমানের অকালমৃত্যু নিয়ে আজও মনে প্রশ্ন জাগে বলে উল্লেখ করেন মৌসুমী। তিনি বলেন, জীবনের ও ক্যারিয়ারের এত উজ্জ্বল সময়ে কেন তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন—হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর কখনো পাওয়া যাবে না। তবে উত্তর খোঁজার চেয়ে সালমানের সঙ্গে কাটানো সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি মনে করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মৌসুমী আরও বলেন, “কল্পনার ভেতর এখনও তার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। সালমান ছিল নিজের জায়গায় অনন্য। চলচ্চিত্র যতদিন বেঁচে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় তিনিও ততদিন বেঁচে থাকবেন।”
উল্লেখ্য, মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে ২৭টি সফল সিনেমায় অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে আজও তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক চিরসবুজ ও অমর নায়ক হিসেবে কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।

