গুয়াহাটিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ স্বামীর

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে ২৫ বছর বয়সী রিয়া তালুকদার গোস্বামী নামে এক নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাটিগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। এছাড়া তাঁর আঙুলগুলোও কেটে ফেলা হয়েছে বলে ফরেনসিক প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।

রোববার স্থানীয় প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দেন। এর আগে প্রায় দুই দিন ধরে ওই দম্পতিকে দেখা যাচ্ছিল না এবং তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরেই ছিলেন তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী।

ঘটনার পর থেকেই রামানুজন পলাতক ছিলেন এবং প্রতিবেশীরা তাঁকে শেষবার শুক্রবার দেখেছিলেন বলে জানান। তবে রোববার রাতেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার অনুরাগ শর্মা জানিয়েছেন, রামানুজনই এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর দেওয়া জবানবন্দি যাচাই করছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

নিহতের মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, রিয়া ও রামানুজনের মধ্যে আগে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ এখন ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অভিযুক্তের বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।