চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় এই অভিযান শুরু হয়, যা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সাদা রঙের সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কীবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ এবং চারটি ভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড। এছাড়া তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ান এম্প্লয়মেন্ট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক জালিয়াতি ও ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে এসব কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীরা বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করতে এবং অনলাইন অপরাধের বিস্তৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে পুলিশ কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির প্রতারণার কৌশল ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ||। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে ন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি আইনানুগ কর্তৃত্বের বাইরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমেও অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন পলাতক আছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিভাইস জব্দ করার পর সেগুলো অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রমে কীভাবে ব্যবহার করা হতো তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
