জুলাই মৃত্যুর ঘটনা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের রায় মঙ্গলবার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির রায় মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় দেবেন। এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর এই মামলার আরেক আসামি, দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এটি এই ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায় হতে যাচ্ছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই এই আসামিরা পলাতক রয়েছেন। এদিকে ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ছয়টি রায়ে ৬১ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে ১১ জন পলাতক এবং ৪ জন কারাগারে বন্দি আছেন।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আন্দোলন দমনে নির্দেশনার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। ১১ জুলাই ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথন এবং ১৫ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগে এসেছে। এছাড়া ১৬ জুলাই তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ এবং পরে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির ঘোষণার মতো বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এসব নির্দেশনার পর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের গুলিতে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১৩ জুলাই মধুর ক্যানটিনে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং ১৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের দমনের নির্দেশ দেন। ১৬ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সাদ্দাম হোসেনের হুমকির সময় তিনি উপস্থিত থেকে সমর্থন জানান। ওই দিনই সারা দেশে ছয়জন নিহত হন এবং ১৮ জুলাই ছাত্রলীগসহ অন্যদের হামলায় আরও ২৩ জন প্রাণ হারান।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ১৫ জুলাই আন্দোলন রুখে দেওয়ার প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার জের ধরে চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত ও মো. ফারুক নিহত হন। এছাড়া মাদারীপুরে নিজ এলাকায় আন্দোলন দমনেও তিনি সক্রিয় তদারকি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন এবং ১৯ জুলাই শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হয়। এছাড়া সরকারি নির্দেশে সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদ বুলেটিন বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে সশস্ত্র ক্যাডাররা দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালিয়েছে। তাঁর প্ররোচনায় চট্টগ্রাম ও মহাখালীতে অনেক নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারান। মাইনুল হোসেন খান নিখিলও প্রকাশ্যে আন্দোলন দমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে সারা দেশে এ আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালে পেশ করা নথিতে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার প্রায় ১০ মাস পর মঙ্গলবার দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৫ জনকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১১ জনই পলাতক, কারাগারে বন্দী আছেন ৪ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসামিদের কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ট্রাইব্যুনালে উত্থাপিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে জানা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথম কাউন্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন হয়।