আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌজাহাজের সংঘর্ষ, তলব কূটনীতিক

উত্তর আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে উভয় দেশ বুধবার একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ২০১৯ সালে কাশ্মীর ইস্যু ঘিরে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনমনের পর দুই দেশের মধ্যে এটি নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দিল্লি ও ইসলামাবাদে কোনো রাষ্ট্রদূত না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনাররাই নিজ নিজ দেশের হয়ে এই প্রতিবাদ জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি নৌজাহাজের অনভিপ্রেত ও পেশাদারিত্বহীন আচরণের কারণেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ভারতের দাবি, তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময় পাকিস্তানি একটি যুদ্ধজাহাজ তীব্র গতিতে খুব কাছাকাছি চলে আসে। দেশটির মতে, এ ঘটনা ১৯৯১ সালের সামরিক মহড়া ও যুদ্ধজাহাজ চলাচলের দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। চুক্তি অনুযায়ী, দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিনগুলোর মধ্যে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে ভারতীয় জাহাজটি আক্রমণাত্মক মহড়া চালিয়েছে। ভারতীয় নৌজাহাজের এই উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে পাকিস্তান।

গত মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ঘটনা সীমান্তে নতুন করে কূটনৈতিক সংকট উসকে দিয়েছে। দুই দেশই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বহীনতা ও চুক্তিলঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করে।