ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে নাটকীয় মোড়

ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ওসিএ) নির্বাচন এবং ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর প্রয়োগ নিয়ে চলমান আইনি জটিলতায় একটি নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পঙ্কজ লোচন মোহান্তি সংগঠনের পূর্ববর্তী অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ওসিএ-এর নির্বাচন প্রায় এক বছর আগেই হওয়ার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার রাজ্য হাইকোর্টে দাখিল করা হলফনামায় মোহান্তি স্পষ্ট করেছেন যে, ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো ভিন্ন অবস্থান নিতে পারে না। তিনি জানান, বিসিসিআই-এর নিয়ম ও প্রবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করাই যুক্তিসঙ্গত। বিসিসিআই-এর নিয়ম লঙ্ঘন করলে ওসিএ-এর সদস্যপদ এবং আর্থিক অনুদান ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

এর আগে ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টে দাবি করেছিল, নির্বাচনের আগে নতুন ক্রীড়া আইনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সে সময় তারা কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি সুপারিশের কথা উল্লেখ করে বলেছিল, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন স্থগিত রাখা উচিত।

তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওসিএ-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা, কোষাধ্যক্ষ বিকাশ প্রধান এবং সভাপতি পঙ্কজ লোচন মোহান্তি নিজেরাই ছয় বছরের বেশি সময় ধরে নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী কোনো পদাধিকারী দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ ছয় বছরের বেশি পদে থাকতে পারেন না।

সরাসরি আলাপকালে মোহান্তি নিজের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, বিসিসিআই-এর বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিসিসিআই আমাদের অভিভাবক সংস্থা এবং তারাই অনুদান দেয়। তাদের নির্দেশ অমান্য করলে অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সদস্যপদ হারানোর ভয়ও থাকে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি বিসিসিআই-এর পক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন।

বিসিসিআই অবশ্য আগেই আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছিল যে, ওড়িশার অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচন না হওয়াটা ওসিএ-এর নিজস্ব উপ-আইন, বিসিসিআই-এর মেমোরেন্ডাম এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী।

হলফনামায় নতুন ক্রীড়া আইন প্রসঙ্গেও বক্তব্য দিয়েছেন ওসিএ সভাপতি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ন্যাশনাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর আওতায় দেশের কোনো রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন পড়ে না। বিসিসিআই তাদের পাল্টা হলফনামায় জানিয়েছে, ক্রিকেটকে এই আইনের জন্য ‘নির্ধারিত ক্রীড়া’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া বিসিসিআই যেহেতু সরকারি কোনো অনুদান পায় না এবং এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, তাই তারা এই আইনের আওতাভুক্ত নয়।

মুম্বাইয়ে বিসিসিআই-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওসিএ-এর প্রতি বিসিসিআই নতুন কোনো পরামর্শ দেয় কি না, সেদিকে নজর সবার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।