আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে সেঞ্চুরি অভিষেক শর্মার

নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাণ্ডব চালিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মা। আফগান বোলারদের ওপর ঝড় তুলে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করার এক অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। এই বিধ্বংসী ইনিংসে ৩৪ বলে ১০৮ রান সংগ্রহ করেন ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার, যাতে ছিল ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কার মার।

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ পায়। ইনিংসের প্রথম ওভারে ফজলহক ফারুকীকে চার মেরে সতর্ক সূচনা করলেও দ্বিতীয় ওভারেই আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী রূপ দেখান তিনি। মোহাম্মদ নবীকে দুই ছক্কা ও এক চারে মাত্র ১৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই তারকা।

পাওয়ারপ্লে-র প্রথম ছয় ওভারে ২২ বলে ৭৬ রান তোলেন অভিষেক, যা পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে ১-৬ ওভারের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এ সময় মুজিব উর রহমান ও রশিদ খানের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে পাওয়ারপ্লে-তে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। ক্রিকভিজের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে পাওয়ারপ্লে-তে তার ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭টিতে, যা ২০২৫ সালে করা তার নিজেরই ৩৪টি ছক্কার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ম্যাচেও পাওয়ারপ্লে-তে তিনি ৭টি ছক্কা হাঁকান।

অভিষেক ৯৯ রানে থাকা অবস্থায় একটি ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছান এবং পরে এক রান নিয়ে কাঙ্ক্ষিত শতক পূরণ করেন। শত রান স্পর্শ করার পর তিনি ক্রিজে ধ্যান করার ভঙ্গিতে বসে উদযাপন করেন, যা তার মানসিক শান্ত ও মনোযোগী অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। গ্যালারির হসপিটালিটি বক্সে বসে তার পিতা রাজকুমার শর্মা হাততালি দিয়ে ছেলের এমন পারফরম্যান্স উপভোগ করেন। একই সময়ে ভারতীয় দলের ডাগআউটে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকেও চওড়া হাসিতে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দ্রুততম শতকের একটি। তিনি ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজার ৩৩ বলের সেঞ্চুরি এবং চলতি বছরের শুরুতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের ৩৩ বলের শতকের রেকর্ড টপকে যান।

সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক পুরুষ টি-টোয়েন্টিতে এটি তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান (২৭ বল) এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ (২৯ বল)। উল্লেখ্য, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও ২৭ বলে করেছিলেন সাহিল চৌহান।

অভিষেকের তাণ্ডব অবশেষে থামে দশম ওভারে। রশিদ খানের বলে উইকেটরক্ষক রহমানুল্লাহ গুরবাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০৮ রানে আউট হন তিনি। তিনি যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছিলেন, তখন অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের পুরো দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।

তার এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের শক্ত ভিত পায় ভারতীয় দল। একই সঙ্গে দিল্লির কোটলা স্টেডিয়ামে যেন নির্ধারিত সময়ের আগেই দেওয়ালির আমেজ ছড়িয়ে দেন অভিষেক।