ওমান উপকূলে জাহাজে মিসাইল হামলা, ভয়ে কাঁপছিল ছেলের মোবাইল

অসুস্থ ভাইকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজার থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পান মো. সাকিব আমান। বার্তাটি ছিল তাঁর বাবা মো. আমান উল্লাহর নম্বর থেকে পাঠানো। চালু করতেই শোনা যায় বাবার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ, জাহাজে মিসাইল হামলার কথা জানিয়ে দোয়া চাচ্ছিলেন তিনি।

এমভি কেপ দাও নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন আমান উল্লাহ। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার পথে ওমানের মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। বুধবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ওই অডিও বার্তা পাঠান তিনি।

জাহাজটির পেছনের অংশে ইঞ্জিন ও আবাসন এলাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে প্রধান প্রকৌশলীর কেবিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বে থাকায় অক্ষত থাকেন। ওমান ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ওই জাহাজে ২০ জন ভারতীয় নাবিকসহ মোট ক্রু ছিলেন। হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং বাকিদের নিরাপদে উদ্ধার করে ওমানে নেওয়া হয়েছে।

আমান উল্লাহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ১৫তম ব্যাচের ক্যাডেট ছিলেন। তাঁর ছেলে সাকিব আমানও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৩তম ব্যাচের জুনিয়র অফিসার। হামলার পর পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পরে ওমান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খবর পাওয়ার পর স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হয়তো আর কমিউনিকেশন করতে পারব না, আব্বু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আম্মুকে (সাকিবের মা) এই কথা বলার দরকার নাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাবার এমন বার্তা শুনে গাড়িতে থাকা তিন ভাই থমকে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মায়ের কাছ থেকে কথাটি আর গোপন রাখা গেল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অডিওটি লাউড স্পিকারে চলায় তিনিও সব শুনে ফেলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলের ভাষায়, খবরটি শুনেই তাঁর মা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্ব পালন করছিলেন নিয়ন্ত্রণকক্ষে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়।