মেসির বিদায়ী ম্যাচের নেপথ্যে যেভাবে কাজ করেছেন স্কালোনি

বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির আকস্মিক বিদায় অনেককেই অবাক করেছিল। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ফাইনাল হারের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, সেই ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ খেলা। তবে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার আগে মাঠ থেকে একটি সম্মানজনক বিদায় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি হবে মেসির বিদায়ী লড়াই। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসন্ন তিন প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৮ সদস্যের স্কোয়াডে মেসির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই এই জল্পনার অবসান ঘটে। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারা সেই বিশ্বকাপ ফাইনালই ছিল দেশের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ। তবে পরিস্থিতি বদলে যায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দেড় মাস পর আকস্মিকভাবেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। জানানো হয়, আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসিকে বিদায়ী ম্যাচে রাজি করানোর পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্কালোনির ভাষ্যমতে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মেসির সঙ্গে কথা বলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, এখনই সেই মোক্ষম সময়। তিনি তাকে বলেছিলেন, ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়।’ ভবিষ্যতে এই সুযোগ আর নাও আসতে পারে—এই বিষয়টি অনুধাবন করেই মেসি অবশেষে বিদায়ী ম্যাচে নামতে রাজি হন। স্কালোনি মনে করেন, মেসি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর এটাই সেরা সময়, কারণ ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে হয়তো তার সেই জাদুকরী প্রভাব আগের মতো থাকবে না। তার ভাষায়, ‘যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সে যাচ্ছিল, তা আমরা সবাই জানতাম।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছেন এএফএ এবং সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তাপিয়া জানিয়েছেন, স্কালোনির সঙ্গে আলোচনার পরই তারা মেসিকে আমন্ত্রণ জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ব ফুটবলের এই প্রতীক ও অধিনায়ক আমন্ত্রণ গ্রহণের পর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী পুরো দলকে তাদের পরিবারসহ এই ম্যাচে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের বিদায়ী মুহূর্ত বা ‘শেষ ট্যাংগো’ উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন সবার নজর ৬ অক্টোবরের সেই ম্যাচটির দিকে। একইসঙ্গে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা চলছে কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও। ডিসেম্বরেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। স্পেনের কাছে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পরপরই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই কোচ। তবে আপাতত সব মনোযোগ মেসিকে ঘিরে হওয়া এই বিশেষ বিদায়ী আয়োজনে। বাবার মৃত্যুর পর মেসি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতীয় দলের জার্সি হয়তো আর গায়ে চড়াবেন না।