মালদ্বীপের সবুজায়ন কর্মসূচিতে ৯ প্রজাতির বাংলাদেশি বীজ উপহার

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মালদ্বীপের চলমান ৫ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ৯টি ভিন্ন প্রজাতির মোট ২১ হাজার ৩৬০টি বীজ এবং চারা উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপহার হিসেবে প্রদান করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মালদ্বীপের মিয়ানজ ইন্টারন্যাশনাল কলেজের স্কুল অব এগ্রিকালচার বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। মালদ্বীপের ৫ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশি বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মিয়ানজ কলেজের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মালদ্বীপের প্রতিকূল মাটি ও জলবায়ুতে বাংলাদেশি এসব গাছের বীজ কতটুকু অঙ্কুরিত হতে পারে এবং সেগুলোর অভিযোজনক্ষমতা কেমন, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হবে। সফল প্রজাতিগুলোর চারা তৈরি করে পরবর্তীতে মালদ্বীপের দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকার মধ্যে রয়েছে পেয়ারা, আকাশমণি, কৃষ্ণচূড়া, নিম, গগন শিরীষ, বকুল, ইপিল-ইপিল, অর্জুন ও বহেরা জাতীয় গাছ। মিয়ানজ কলেজ এই গবেষণা পরিচালনা ও তথ্যাবলি সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এই কার্যক্রম নিছক বীজ হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কৃষি গবেষণা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া মিয়ানজ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আহমেদ মুত্তাকী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশি এই বীজ থেকে গাছ বড় হলে তা দুই দেশের বন্ধুত্বের অনন্য প্রতীক হয়ে থাকবে। তিনি এই গাছগুলোকে ‘তারেক জিয়া ট্রি’ হিসেবে পরিচিত করার একটি প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশের জন্য সবুজায়নে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

মালদ্বীপ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৫.৮ মিলিয়নের বেশি চারা রোপণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ১.৮ মিলিয়নের বেশি গাছ ইতিমধ্যে রোপণ করা হয়েছে। এই আয়োজনে হাইকমিশনের প্রথম সচিব মুতাছেম বিল্লাহ, তৃতীয় সচিব সৈয়দ আমজাদ আলী, হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এবং মিয়ানজ কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমাত শাহিমাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।