দেশের নাগরিক হিসেবে আমি ন্যায়বিচার চাই: তানজিন তিশা

অনলাইন পেজের শাড়ি প্রতারণা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন বর্ধিতের আবেদন জানান। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত প্রাঙ্গণে তিশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভক্ত ও সহকর্মীদের ভালোবেসে দেওয়া উপহার আমরা গ্রহণ করি, কিন্তু তেমনই একটি উপহার নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পড়তে হলো।

মামলার বিবরণ ও মূল অভিযোগ

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের শাড়ি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো এবং পরবর্তীতে শাড়ির মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। তবে শাড়ি নেওয়ার পর তিনি পেজটির সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে পেজের প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ দেখি আমার বিরুদ্ধে ২৭-২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নিউজ হয়ে গেছে!’।

অভিযোগের বিষয়ে তিশার ব্যাখ্যা

আদালতের কার্যক্রম শেষে তানজিন তিশা সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমাদের এক পরিচিত বড় বোনের মাধ্যমে আমি শাড়িটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো ছিল। তিনি উপহার হিসেবে শাড়িটি নেওয়ার অনুরোধ করলে আমি রাজি হই এবং পরবর্তীতে ছবি পোস্ট করার আশ্বাস দিই। আমরা প্রায়শই কাজের খাতিরে এমনটা করে থাকি এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখি।’ শাড়িটির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, সে সময় তিনি তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘সোলজার’-এর শুটিং প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। সিনেমার কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তারা ছবিগুলো চাচ্ছিল এবং তিনি ব্লাউজ বানিয়ে প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি বারবার তাদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছিলেন, কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ দেখতে পান তার নামে মামলা ও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা ও বিচার দাবি

হঠাৎ করে প্রতারণার অভিযোগ তোলায় ব্যথিত তিশা বলেন, ‘আমার নামে প্রতারণার অভিযোগ তোলার আগে অন্তত একবার সরাসরি কথা বলা যেত। এর পেছনে কে বা কারা আছে, কেন এসব করেছে তা নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের কাছ থেকেই ন্যায়বিচার আশা করি।’ নিজের অবস্থান নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি আমাকে আরও পাঁচবারও আদালতে আসতে হয়, আমি আসব। কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আমি তা কখনোই মেনে নেব না। দিনশেষে এ দেশের নাগরিক হিসেবে আমি ন্যায়বিচার চাই।’