লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোল, ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিল স্পেন

বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রথমবার খেলতে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগের হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে সেভিয়ার র‍্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটিতে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল জোড়া গোল করে স্পেনের জয়ের প্রধান কারিগর হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর ঘরের মাঠে এটিই ছিল স্পেনের প্রথম ম্যাচ।

ম্যাচ শুরুর আগে এক আবেগঘন আবহে অধিনায়ক রদ্রি বিশ্বকাপ ট্রফিটি দর্শকদের সামনে উঁচিয়ে ধরেন। খেলা শুরুর মাত্র ৭০ সেকেন্ডের মাথায় বাঁ প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত আক্রমণে গোল করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল। যদিও প্রথমার্ধের ২৮ মিনিটে ইভান পেরিসিচের ক্রসে হেডে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ডিওন দ্রেনা বেল্লো। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, কারণ তিন মিনিট পরেই মার্ক পিউবিল স্পেনকে পুনরায় এগিয়ে দেন। কিক-অফের মাত্র ৭০ সেকেন্ডের মাথায় বাঁ প্রান্ত থেকে চমৎকার আক্রমণে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন লামিনে ইয়ামাল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ৬৩ মিনিটে পেদ্রির দেওয়া নিখুঁত থ্রু পাস থেকে কঠিন কোণায় বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল। ৬৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকদের কাছ থেকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন গ্রহণ করেন। এছাড়া ৮১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদরিচ বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও বড় হার এড়াতে পারেননি। খেলার শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির জানান দেয় স্পেন। ৬৮ মিনিটে এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে যখন মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, তখন পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন জানান। তবে তার উপস্থিতি দলটিকে বড় হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড়দের সমন্বিত আক্রমণে নিকো উইলিয়ামস গোল করলে স্পেনের ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। রদ্রি, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোর গড়া আক্রমণ থেকে আসা বলে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন উইলিয়ামস। উয়েফা নেশনস লিগে টানা দুই জয়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ৩ অক্টোবর চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে, আর একই দিনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ক্রোয়েশিয়া। দুই ম্যাচে এটি তার চতুর্থ গোল-অ্যাসিস্ট অবদান।