সেমিফাইনালের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের পরাজয়ের পেছনে ব্যক্তিগত বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তার মতে, টস হার এবং পিচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব এই হারের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। লিটন জানান, শেষ কয়েকদিন উইকেট রোদে না থাকায় এবং কাভার আপ অবস্থায় থাকায় পিচ কিছুটা স্টিকি ছিল। টস জেতা পাকিস্তান শুরু থেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ৫-৬ ওভারে ভালো বল করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল, যেখান থেকে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং হতশ্রী ব্যাটিং-বোলিংয়ের ব্যাখ্যাটাও দিয়েছেন ম্যাচ শেষেই। আমার মনে হয় প্রথম ৫-৬ ওভার তারা খুবই ভালো বল করেছে এবং ওখানে আমরা খুব একটা বেশি রান তুলতে পারিনি। অনেক দিন ধরেই রুমের ভেতর ছিলাম, যা একজন ক্রিকেট প্লেয়ারের জন্য খুব একটা আইডিয়াল না।
ম্যাচে বোলারদের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপও ঝরেছে লিটনের কণ্ঠে। তিনি স্বীকার করেন, হৃদয় ভালো ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত বোলিং এবং ব্যাটিংয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারার কারণেই ফলাফলে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। লিটন দাবি করেন, আবহাওয়াও তাদের পারফরম্যান্সে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, কারণ দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থেকে সরাসরি এমন ম্যাচে ফেরা একজন খেলোয়াড়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। এছাড়া টসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, উইকেট সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় প্রথম কয়েক ওভার খেলতে অসুবিধা হয়েছে, যেখানে পাকিস্তান বোলিং করার সুবাদে পিচ বোঝার সুযোগ বেশি পেয়েছে। টসে আমরা হেরে গিয়েছি, স্বাভাবিকভাবেই বোলিং দল একটু সুবিধা পেয়েছে। ও আমাদের জন্য মোমেন্টামটা পরিবর্তন করে দিয়েছিল।
স্কোরবোর্ডে ১১১ রান তোলার পরও লিটনের বিশ্বাস, বোলিংয়ে আরেকটু ভালো করতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। দলের অভিজ্ঞ বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দুই ওভারে ৪১ রান দিলেও মুস্তাফিজ দীর্ঘদিন দলের সেরা বোলার হিসেবে সার্ভিস দিচ্ছেন; আজকের দিনটি কেবল তার অনুকূলে ছিল না। এছাড়া প্রথম ওভারে ১৮ রান খরচ করার পরও তাকে পুনরায় বোলিংয়ে আনার সিদ্ধান্তটি নিজের ব্যাখ্যায় তিনি এভাবে জানান, মুস্তাফিজ ওই ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিলে এমন সমালোচনা হতো না। অধিনায়ক হিসেবে তিনি সবসময় নিজের সেরা বোলারকেই আক্রমণে নিয়ে আসেন বলে উল্লেখ করেন।
স্বর্ণ জেতার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপে অধিনায়ক বলেন, দেশ ছাড়ার সময় ফাইনাল খেলার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন তারা। এমন সুযোগ সবসময় আসে না, যা এবার সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারায় আক্ষেপ রয়ে গেছে। সবমিলিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হেরে ফাইনালে উঠতে না পারার দায়ভার এবং ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণগুলো ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে খোলাসা করেছেন লিটন দাস।

