আইপিএলে ফের হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে নতুন জল্পনা

আইপিএলের আসন্ন মৌসুমের আগে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকে ঘিরে আবারও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সী এই তারকার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ম্যানেজমেন্টের কাছে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল পান্ডিয়াকে নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা ও অনুসন্ধান চালিয়েছে। যদিও এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ট্রেড বা দলবদলে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

হার্দিক পান্ডিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত। ফিট থাকলে তিনি যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও সম্প্রতি তার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং এবং কার্যকর পেস বোলিংয়ের কারণে আগামী বছরের বিশ্বকাপে তাকে শারীরিক দিক থেকে সেরা অবস্থায় পাওয়ার ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত আগ্রহী।

নেতৃত্বের দিক থেকেও পান্ডিয়ার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। গুজরাট টাইটান্সকে নিজের নেতৃত্বেই প্রথম আসরে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি, পরেরবার দলটিকে ফাইনালে তুলেছিলেন। যদিও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে তার যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না, তবুও দল পরিবর্তন করলে তার অধিনায়কত্ব নতুন করে সাফল্যের মুখ দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে পান্ডিয়ার ফিটনেস এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সবশেষ আইপিএলের পর থেকে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলছেন না। সম্প্রতি ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত ইন্ডিয়া ‘এ’ দল থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি, যা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাকে দলে নেওয়ার আগে গুজরাট টাইটান্সের সেই সফল পান্ডিয়া নাকি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যর্থ পান্ডিয়াকে পাবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ইতিমধ্যে চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো একাধিক দলের সাথে আলোচনা করেছে। তবে সিএসকেতে জহির খানের যোগদানের পর সেখানে পান্ডিয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষীণ হয়েছে বলেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে, কারণ মুম্বাইয়ে থাকাকালীন জহির ও হার্দিকের মধ্যে কাজের সম্পর্ক খুব একটা সহজ ছিল না। যদিও পেশাদার পরিবেশে সম্পর্কের সমীকরণ যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।

১৫ নভেম্বর হলো খেলোয়াড় ধরে রাখার বা রিটেনশনের চূড়ান্ত সময়সীমা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গোয়াতে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সাধারণত রিটেনশন তালিকার মাধ্যমেই তাদের কৌশলের পরিকল্পনা করে। আগামী তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্রেড উইন্ডো খোলা থাকলেও মুম্বাই ম্যানেজমেন্ট খুব একটা তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়। তবে সব পক্ষই চায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে, যাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পায়।