উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ ১-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও শেষদিকে মাত্র ১৪ মিনিটের ঝড়ে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় ফরাসিরা। এ জয়ের ফলে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফ্রান্স, যেখানে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হার মানা বেলজিয়াম ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। গ্রুপে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালি।
ম্যাচের শুরুর দিকে ফ্রান্স বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোল করার সমস্যায় ভুগছিল। টানা আট ম্যাচ ধরে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখার ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকে। উল্টো ম্যাচের ৩৫ মিনিটে রোমিও লাভিয়ার থ্রু বল থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দদি লুকবাকিও। ফলে ১১ বছর আগের হারের স্মৃতি সমর্থকদের মনে ভিড় করতে থাকে। সর্বশেষ আট ম্যাচেই ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো গোল করতে না পারার খরা কাটেনি এবারও। সমর্থকদের মনে উঁকি দিতে শুরু করে ১১ বছর আগে বেলজিয়ামের কাছে হারের তিক্ত স্মৃতি।
দ্বিতীয়ার্ধের আধা ঘণ্টা পার হলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ফ্রান্সের ডাগআউটে অস্বস্তি বাড়ছিল। তবে কোচ জিনেদিন জিদান ৬০ মিনিটে মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকি এবং ৭২ মিনিটে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামালে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। বদলি খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে ৭৭ মিনিটে লুকাস দা কুনহার পাস থেকে দারুণ শটে ১-১ সমতা ফেরান দেজিরে দুয়ে। এর চার মিনিট পরেই শেরকির গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। বেলজিয়ামের নিকোলাস এনগয় সুযোগ নষ্ট করলে ফ্রান্সের জয়ের পথ প্রশস্ত হয়। ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বদলি হিসেবে মাঠে তুরুপের তাসগুলো নামান কোচ জিনেদিন জিদান। আর এই তিন বদলি খেলোয়াড়ই মাঠে নেমে জাদু দেখান। সমতায় ফেরার ঠিক চার মিনিট পরই (৮১ মিনিট) ফের গোল উৎসবে মাতে ফ্রান্স। মাঝে বেলজিয়ামের নিকোলাস এনগয় একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে প্রতিপক্ষ।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে দেজিরে দুয়ে ও ওলিসের দারুণ বোঝাপড়ায় স্কোরলাইন ৩-১ করেন মাইকেল ওলিসে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে (৯০+১) শেরকি ও দুয়ের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন ওলিসে। এই অবিশ্বাস্য জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল জিদানের দল।

