জাতীয় ক্রিকেট লিগ: ড্রয়ের দিনে সেঞ্চুরি করলেন রবিন

জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে একমাত্র খুলনা জয় পেয়েছে। তৃতীয় দিনেই বরিশালের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় তারা। তবে লিগের অন্য তিনটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে। মঙ্গলবার শেষ দিনের খেলা শেষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রংপুর-ঢাকা, রাজশাহী-চট্টগ্রাম এবং সিলেট-ময়মনসিংহের ক্রিকেটারদের। মূলত এই জুটির কারণেই ম্যাচের ভাগ্য ড্রয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা ও রংপুরের লড়াইটি বেশ উত্তেজনাকর ছিল। তৃতীয় দিন শেষে মাত্র ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে ছিল রংপুর। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক আকবর আলী। ১৩২ বলে ৬৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে হারের শঙ্কা দূর করেন তিনি। তার সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৬৯ বলে করেন ২৭ রান। শেষ পর্যন্ত রংপুর ১৪৯ রানে অলআউট হলে ঢাকার লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৫ রানের। তবে হাতে সময় কম থাকায় মাত্র ৪ ওভার ১ বলে ৯ রান করতে পারে ঢাকা। এর আগে ঢাকার প্রথম ইনিংসটি তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৮৪ রানে থামে, যদিও শুরুতে তারা চাপে পড়েছিল। প্রথম ইনিংসে রংপুরের সংগ্রহ ছিল ৩৪০ রান। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে ঢাকা-রংপুর ম্যাচটা জমে উঠেছিল তৃতীয় দিনের শেষদিকে৷ ওই দিন শেষের দিকে মাত্র ৬ রানে রংপুরের ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের আশা তৈরি করেছিল ঢাকা। গতদিনের ৬ রানে ৩ উইকেট থেকে মঙ্গলবার সকালে ৪২ রানে ৫ উইকেট হয় রংপুরের। ষষ্ঠ উইকেটে আকবরকে ভালো সঙ্গ দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহ ও সিলেটের ম্যাচটিতে বড় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। গত দিনের ৮৬ রান নিয়ে শুরু করা রবিন শেষ পর্যন্ত ১০০ রান করে আউট হন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৭০ রান সংগ্রহ করায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রবিন। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে আরিফুল ৭২ ও আব্দুল মজিদ ৮৭ রান করেন। ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৭ রান তুলে অলআউট হয়। সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ ১১৯ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন। সিলেট অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি। প্রথম ইনিংসে ময়মনসিংহ ৩১১ রান এবং সিলেট ৩২৭ রান করেছিল।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ম্যাচটিও ড্র হয়েছে। প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর ৩৬৪ রানের জবাবে চট্টগ্রাম করে ৩৯৩ রান। চট্টগ্রামের হয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদিকুর রহমান ও মাহমুদুল হাসান জয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে রাজশাহী ৮ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তোলে। সেই ইনিংসে সাব্বির রহমান সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন এবং নাঈম আহমেদ করেন ৪৭ রান। চট্টগ্রামের হয়ে দুই স্পিনার আশরাফুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।