জাতীয় ক্রিকেট লিগের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া সেকেন্ড ইলেভেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে আটটি দল। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টটি শুরু হলেও এর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে শুরুতেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ক্রীড়া পল্লিতে খেলোয়াড়দের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে সেখানে পরিচ্ছন্নতার অভাব, যত্রতত্র জমে থাকা পানি ও ময়লার উপস্থিতির মতো অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের থাকার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ৮ দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটি শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। জাতীয় ক্রিকেট লিগে এবারই প্রথম চালু হয়েছে সেকেন্ড ইলেভেন চ্যাম্পিয়নশিপ। সেকেন্ড ইলেভেনের সবগুলো ম্যাচই আয়োজন করা হয়েছে ঢাকায়। তবে সেখানে আবাসনে অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক। যত্রতত্র ময়লা ও পানি জমে থাকা; খেলোয়াড়দের রুম ও বিছানায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দেখা গিয়েছে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি আবাসন সমস্যার দায় স্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার থেকেই এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার গাফিলতি বা সমস্যা ফেলে রাখা হবে না। কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ধারা প্রবর্তনের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে আলমগীর জানান, নতুন কোনো ফরম্যাট বা কাঠামো শুরু করতে গেলে প্রাথমিক কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশে একই সময়ে দুটি দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আগে কখনও হয়নি। তাই মাঠ নির্বাচন ও আবাসনের মতো বিষয়গুলোতে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা তারা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ করছেন। তিনি জানান, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নিয়ে গত মঙ্গলবার জরুরি জুম মিটিং করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) আবাসন নিয়ে যে সমস্যাটি হয়েছে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই বিতর্কের মুখে বিসিবি।
ক্রীড়াপল্লীর আবাসন সংকট নিরসনে লজিস্টিক বিভাগকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যে সমস্যাগুলো সামনে এসেছে, তা আজকের মধ্যেই সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বোর্ড সব দায়ভার গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

