মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান: ১৯৯ বাংলাদেশিসহ আটক ৬৩০

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের কুলিমের পাদাং মেহায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। সোমবার বেলা ১১টার দিকে ‘অপস মেগা’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের বিভিন্ন শাখার ১৫৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় মোট ৬৯৭ জনের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযান চলাকালে মোট ৬৯৭ জন বিদেশি ও মালয়েশীয় নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগের নির্ধারিত সব শর্ত মেনে চলতে হবে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন চীনের নাগরিক, যাদের সংখ্যা ৩৯৬ জন (৩৯১ পুরুষ ও ৫ নারী)। এছাড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৯৯ জন (১৯৮ পুরুষ ও ১ জন নারী) রয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের ১০ জন, মিয়ানমারের ৭ জন, ভারতের ৫ জন, ঘানার ৪ জন, নাইজেরিয়ার ৩ জন, কেনিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ২ জন করে এবং নিউজিল্যান্ড ও সেনেগালের একজন করে নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ৬২২ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া ৩৯৬ জন চীনা নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে। জাতীয়তাভিত্তিক হিসাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের ৩৯৬ জন (৩৯১ পুরুষ ও পাঁচ নারী); বাংলাদেশের ১৯৯ জন (১৯৮ পুরুষ ও একজন নারী); পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ; মিয়ানমারের সাতজন পুরুষ; ভারতের পাঁচজন পুরুষ; ঘানার চারজন পুরুষ; নাইজেরিয়ার তিনজন পুরুষ; কেনিয়ার দুজন।

অভিযান পরিচালনার সময় বেশ কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন এবং নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। এসময় কিছু আটকের উসকানিমূলক আচরণের কারণে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগ শাখা, বিশেষ কৌশলগত দলসহ বিভিন্ন রাজ্যের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আইন প্রয়োগ শাখা, গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা, বিশেষ কৌশলগত দল এবং কেদাহ, পারলিস, পেরাক, কুয়ালালামপুর ও নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের কর্মকর্তারা ছিলেন। তাদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লুকিয়ে পড়েন, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদেও উঠে যান।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশটির অভিবাসন আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে সাক্ষীদের সহায়তার জন্য ছয়টি সমন জারি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সাক্ষীদের সহায়তা নিতে ছয়টি সমনও জারি করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আবারও নিয়োগকর্তা, প্রধান ঠিকাদার ও উপঠিকাদারদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈধ ভ্রমণ নথি এবং যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।