জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকটের প্রতিবাদে শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন, তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের জেরে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে ও প্যারিস অপেরার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে দর্শনার্থীরা মোনালিসা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে। শনিবার রাতে প্যারিস ও মার্সেইতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের একটি প্ল্যাকার্ডেও এই ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এমিলি গ্রঁদ্রি নামের এক ফরাসি মা জানান, সন্তানদের আগলে রাখতে রাজপথে নামা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না। গত সপ্তাহের বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি পুনরায় মিছিলে যোগ দেন। এমিলির ১৫ বছর বয়সী ছেলে অ্যারন জানায়, তাদের স্কুল ভবনগুলো জরাজীর্ণ এবং শিক্ষকদের তীব্র সংকট রয়েছে, কিন্তু সরকার এসব বিষয়ে উদাসীন। অ্যারন আরও অভিযোগ করে, মিছিলে পুলিশের বাধা মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার। ‘এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না, আমাদেরকে রাজপথে ফিরতেই হতো।
বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের একটি বড় জায়গা হলো সাধারণ মানুষের জীবনের চেয়ে সম্পত্তির নিরাপত্তাকে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া। ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্লারা লেব্বাদি বলেন, ভাঙচুর হওয়া দোকানের জন্য মানুষ কান্নাকাটি করলেও দরিদ্র মানুষের অধিকারের বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জিনিসপত্র ভাঙলে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, কিন্তু মানুষকে যাঁরা আঘাত করেন তাঁদের কী হবে?’ অথচ সারা বছর ধরে যারা আরও গরিব হচ্ছে, তাদের জন্য কারও মায়া নেই।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ভয়ের মুখে পিছু হটলে দাবি আদায় সম্ভব নয়। শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ জানান, তরুণদের কথা সরকার কানে না তোলায় নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে তিনি মিছিলে এসেছেন। এছাড়া আট বছর বয়সী নাতনির সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়ের এবং নিজেদের অধিকার টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে যোগাযোগকর্মী নাদেজসহ অনেকেই ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে যোগাযোগকর্মী নাদেজ বলেন, ‘সবাই বেশ ভয় পাচ্ছে।

