দলের ব্যর্থতায় শপিং নিয়ে ক্ষোভ, জবাব দিলেন হাবিবুল বাশার

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ দলের টানা দুই ম্যাচে পরাজয় ভক্তদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীরা বাংলাদেশ দলকে ‘শপিং টিম’ বা ‘ট্রাভেল টিম’ বলে ব্যঙ্গ করছেন। তাদের অভিযোগ, ক্রিকেটাররা চড়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পেলেও মাঠে জয়ের জন্য তাদের মধ্যে পর্যাপ্ত ক্ষুধা নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা দলের ক্রিকেটারদের আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের আগের রাতে দুবাইয়ের শপিং মলে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের এমন আচরণ মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে কিনা, সেই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। তাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেট ভক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করে। ম্যাচের পূর্বে অনুশীলনে মনোযোগ না দিয়ে শপিং মলে সময় কাটানোর এমন খবরে ফের শুরু হয় ভক্তকূলের সমালোচনা। তাদের ব্যাটিংয়ের কৌশলগত সমস্যার সঙ্গে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে ক্রিজে টিকে থাকার ঘাটতিও রয়েছে।

তবে দলের পারফরম্যান্সের সাথে শপিংয়ের কোনো সম্পর্ক আছে—এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ দল আগে ব্যাট করে ২৮০ থেকে ২৯০ রান তুলতে পারলে জয় পায়। কিন্তু ২৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যাটিং লাইনআপ বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। আসন্ন আফ্রিকা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে ৩০০ রান তাড়া করার প্রস্তুতি থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। আগামী ছয় মাস এই সমস্যা সমাধানের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সবশেষ ২০ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ সমান ১০টি করে জয় ও হার দেখেছে, যার মধ্যে সাতটি হার এসেছে রান তাড়া করতে গিয়ে। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৬০ রানে অলআউট এবং আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে পরাজয় ব্যাটিং ব্যর্থতারই চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে আমরা প্রথমে ব্যাটিং করে ২৮০ থেকে ২৯০ রান তুললে ম্যাচগুলো জিতি। আফ্রিকার কন্ডিশনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে ৩০০ রান তাড়া করার প্রস্তুতি আমাদের থাকতে হবে। এটা চাপের কারণে নাকি স্কিলের ঘাটতি, সেটা চিহ্নিত করাই আমাদের লক্ষ্য। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতার শিকার হয়ে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে সাত উইকেটে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ৯৯ রানে পরাজিত হয় দলটি। প্রধান নির্বাচক সমস্যাটি অনুধাবন করেছেন। সমস্যা দূর হলে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে তার বিশ্বাস। তবে এর আগে আমরা পর পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি এবং প্রতিপক্ষ দলকে হারিয়েই ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইও করেছি। আমার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা দ্রুতই বাউন্স ব্যাক করবে।

বাশার আরও বলেন, যদিও টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটাররা ভালো ছন্দে আছেন, তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক। টপ অর্ডার থেকে রান না আসায় দলীয় সংগ্রহ বড় হচ্ছে না। ক্যাচ আউট হওয়া, শট সিলেকশন ভুল এবং মানসিকভাবে চাপের মুখে ভেঙে পড়া দলের বড় সীমাবদ্ধতা। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ২০ ম্যাচে ব্যাটাররা ১১১ বার ক্যাচ দিয়েছেন, ২৩ বার বোল্ড হয়েছেন এবং ১৫ বার এলবিডব্লিউ হয়েছেন। রান আউটের শিকার হয়েছেন ১১ বার। দলের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়ার দাবিও উঠেছে। এ বিষয়ে বাশার জানান, টিম ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। পেসারদের সুইং বা স্পিনারদের টার্ন পড়তে না পেরে ২৩ বার বোল্ড হয়েছেন তারা। স্ট্যাম্পের লাইনের বল মিস করে ১৫ বার এলবিডব্লিউ হন ব্যাটাররা। ওপেনিং জুটির ব্যর্থতায় দল চাপে পড়ে।

বর্তমানে নির্বাচকদের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। প্রধান নির্বাচককে সরিয়ে দেওয়ার তৎপরতা চলছে বলেও শোনা যাচ্ছে। তবে বাশার এসব ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, দল গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং বাইরের কোনো প্রভাবের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এছাড়া সৌম্য সরকারকে দলে না রাখার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবশেষে বাশার বলেন, যখন একটি দল টানা কয়েকটি ম্যাচে হারে, তখনই বাইরের আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ে; কিন্তু জয়ের ধারায় থাকলে কেউ এমন কথা বলে না। দলের ওপর নির্বাচকদের পূর্ণ আস্থা আছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।