বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জার্মান এমপি আরমান্ড জর্নের উদ্বেগ

বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নাগরিক অধিকার সংকোচন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ এনে জার্মান পার্লামেন্টের (বুন্ডেস্টাগ) সদস্য ও ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) শীর্ষ নেতা আরমান্ড জর্নের কাছে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় জার্মানির ফ্রাংকফুর্টের জিডলিংগনে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক বৈঠকে তথ্য-প্রমাণসংবলিত এসব নথিপত্র তাঁর হাতে তুলে দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নথিপত্রগুলো জার্মান পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যদের কাছে দ্রুত উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জার্মানির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ ও কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে উদ্ভূত সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়। ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ।

প্রতিনিধিদলটি আরও জানায়, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা, অব্যাহত হেনস্তা এবং একাধিক শিক্ষককে হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনা একের পর এক ঘটছে। উপস্থাপিত এসব তথ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনার পর বাংলাদেশের মানবাধিকার এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জার্মান এমপি আরমান্ড জর্ন। বৈঠকে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংকটময় মানবাধিকার চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনর্বহাল করতে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পুরো বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ETHNC, ঢাকায় প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর। একই সঙ্গে নাগরিকদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।