আফগানিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক রহমত শাহ জানিয়েছেন, পিঠের পুরনো ইনজুরির কারণে তারকা লেগ-স্পিনার রশিদ খান বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নন। তবে রশিদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে দ্রুতই টেস্ট দলে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদী তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে রশিদ খানের লাল বলের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। মূলত শারীরিক সক্ষমতার অভাব এবং ইনজুরির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ফরম্যাটে তাকে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। সাদা বলের ক্রিকেটে রশিদের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় তার ফিটনেস নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে রহমত শাহ বলেন, রশিদ আমাদের প্রধান স্পিনার এবং আমরা তাকে সাদা বলের ক্রিকেটে কোনোভাবেই হারাতে চাই না। তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে চিকিৎসকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নই, কারণ রশিদের মতো খেলোয়াড় দলের জন্য অপরিহার্য।
রশিদের টেস্ট না খেলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রহমত জানান, টি-টোয়েন্টি বা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একজন বোলারকে মাত্র ৪ ওভার বল করতে হয় এবং ম্যাচের ব্যাপ্তি মাত্র তিন ঘণ্টা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে কাজের চাপ অনেক বেশি, যা তার পিঠের ইনজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার ওয়ার্কলোড বা খেলার চাপ ব্যবস্থাপনা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে এবং এসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। রশিদ শতভাগ সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে সে টেস্ট ক্রিকেট দারুণ পছন্দ করে, তাই তার ফেরাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার গুরুত্ব তুলে ধরে আফগান অধিনায়ক বলেন, নিয়মিত বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ না পাওয়ায় আমরা টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা অর্জনে পিছিয়ে আছি। যদি আমরা আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হতে পারি, তবে বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে আমাদের দক্ষতা আরও বাড়বে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে রহমত বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র হওয়া সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস নিচ্ছেন। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সেই ড্র-কে তিনি জয়ের সমতুল্য বলে অভিহিত করেন। এই অনুপ্রেরণা নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের লক্ষ্য তাদের।
আগামী ৫ নভেম্বর শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে। এরপর ১৩ নভেম্বর একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

