ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সংকট
সারাদেশের মতো বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও সকাল ১১টা থেকে ক্লাস বর্জন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
৫০০ শয্যার অনুমোদিত জনবলের প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য থাকলেও ১ হাজার শয্যার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। এর মধ্যেই কর্মরত ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের কর্মবিরতিতে হাসপাতালটিতে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবি
শিক্ষানবীশ চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
- এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল।
- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বিসিপিএস ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ।
- নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করা এবং ট্রেইনিদের নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা।
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
- বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ।
শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা তাদের কর্মসূচিতে সকল পর্যায়ের চিকিৎসকদেরও অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনিম বলেন, “আকস্মিক এ ধর্মঘটের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও সংকট উত্তরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
