বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ সংকট
ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে পর্তুগাল। নবাগত দল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর থেকেই পর্তুগিজ শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা এবং অন্তর্কোন্দল। তবে এবার সমালোচনার তীর কেবল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকেই নয়, বরং তার পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রোনালদোর বোন কাতিয়া আভেইরো।
কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো একবারের জন্যও প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিতে পারেননি। তার এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের দিনেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন, যা রোনালদোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আল-নাসরের এই মহাতারকাকে শুরুর একাদশে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, যদিও কোচ মার্তিনেজ তার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। তবে প্রথম ম্যাচের পর যখন রোনালদোকে বেঞ্চে বসানোর দাবি জোরালো হচ্ছে, তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিন্ন নাটকীয়তার জন্ম দিলেন তার বোন।
ব্রুনো ফার্নান্দেসের সমালোচনা ও কাতিয়া আভেইরোর লাইক
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেসের সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি পোস্টে লাইক দিয়েছেন কাতিয়া আভেইরো। ব্রাজিলের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে করা ওই পোস্টে দাবি করা হয় যে, ব্রুনো ক্লাবের হয়ে নিয়মিত ভালো খেললেও জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। বোনের এমন কাণ্ড পর্তুগাল দলের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিবেশকেই যেন প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
যদিও মাঠের ব্যর্থতা নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজে বেশ সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, “মাঠে কোনো কিছুরই কমতি ছিল না, এটাই ফুটবল। তারা জিততেও পারত, আবার হারতেও পারত।” পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোনালদো তার সতীর্থদের মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পর্তুগাল
দলীয় সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সও এই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যেকোনো ছোট দলই নিজেদের উজাড় করে খেলে। তবে কলম্বিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায়, পর্তুগালের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নদের কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
