টাইব্রেকারের নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে ফিফা
চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হবে আগামী ২৮ জুন। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর আগেই টাইব্রেকার পরিচালনার নিয়মে বড় ধরণের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট চলাকালীনই এই নতুন নিয়মটি কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়ে সংস্থাটির ভেতরে আলোচনা চলছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, টাইব্রেকার শুরুর আগে দুটি কয়েন টস অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম টসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন দল আগে শট নেবে, আর দ্বিতীয় টসের মাধ্যমে ঠিক করা হয় মাঠের কোন প্রান্তে পেনাল্টি শুটআউট অনুষ্ঠিত হবে।
কী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে?
ফিফা এখন এই দুটি আলাদা টসের বদলে একটি মাত্র টস রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে টসে জয়ী দল দুটি সুবিধার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবে। হয় তারা আগে শট নেওয়ার সুযোগ নেবে, অথবা নিজেদের সমর্থকদের গ্যালারির সামনে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। টসে হেরে যাওয়া দল তখন অপর সুবিধাটি ভোগ করবে।
বর্তমান নিয়মের ফলে কোনো কোনো দল দুটি টসেই হেরে যেতে পারে। এর ফলে তারা আগে শট নেওয়ার সুযোগ পায় না, আবার সমর্থকদের সামনে টাইব্রেকার নেওয়ার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়। গত মাসে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। পিএসজির বিপক্ষে দুই টসেই হেরে যাওয়া দলটি পরবর্তীতে টাইব্রেকারেও পরাজয় বরণ করে। এমন জটিল পরিস্থিতি এড়াতেই ফিফা পরিবর্তনের কথা ভাবছে। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) সাথেও আলোচনা করেছে ফিফা।
কেন এই চিন্তা?
ফুটবলে আগে শট নেওয়ার সুবিধা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগে শট নেওয়া দল সাধারণত বেশি সফল হয়। এছাড়া নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। ফিফার ধারণা, একটি দল যদি দুটি সুবিধা একসাথে পেয়ে যায়, তবে প্রতিপক্ষ দল অনেকটা পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।
তবে এটি মাথায় রাখা জরুরি যে, টাইব্রেকারে আগে শট নেওয়া বা সমর্থকদের সামনে খেলা মানেই জয় নিশ্চিত এমন নয়। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ওই ম্যাচে ফ্রান্স আগে শট নেওয়ার সুযোগ এবং গোলপোস্ট বেছে নেওয়ার সুবিধা পেলেও শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
