সাড়ে তিন বছরের মধ্যে চীনে খুচরা বিক্রিতে প্রথম পতন: মে মাসে ০.৬% হ্রাস

চীনের খুচরা বিক্রিতে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে প্রথম পতন

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে অভ্যন্তরীণ মন্দা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশটির খুচরা বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর—অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে খুচরা বিক্রিতে এটিই প্রথম বড় ধরনের পতন।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (NBS) দেশটির অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিক্রির হ্রাসের কারণ ও অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস

অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল যে, মে মাসে খুচরা বিক্রি অন্তত আগের মাসের মতোই স্থিতিশীল থাকবে। তবে মে মাসের ৫ দিনের ‘লেবার ডে’ (শ্রমিক দিবস) ছুটি এবং সরকারের বিভিন্ন বিশেষ ভোক্তা-প্রণোদনা স্কিমও চীনা নাগরিকদের কেনাকাটায় আগ্রহী করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, চাকরি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং রিয়েল এস্টেট (আবাসন) খাতের টানা পঞ্চম বছরের মন্দার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ খরচ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। এই সতর্কতামূলক মনোভাবই খুচরা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

খাতভিত্তিক প্রভাব

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বড় বড় খাতে ধস নামার কারণেই খুচরা বিক্রিতে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মে মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি:

  • অটোমোবাইল বা গাড়ি বিক্রি কমেছে ১৬.১ শতাংশ।
  • গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি কমেছে ১৫.৬ শতাংশ।
  • আবাসন সংকটের কারণে নির্মাণ সামগ্রীর বিক্রি কমেছে ১৩.৬ শতাংশ।

রপ্তানি ও শিল্প উৎপাদনে ভিন্ন চিত্র

অভ্যন্তরীণ বাজারে চরম মন্দা থাকলেও চীনের কলকারখানাগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে উৎপাদন সচল রেখেছে। মে মাসে দেশটির শিল্প উৎপাদন ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল মাসের ৪.১ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে কিছুটা বেশি। এছাড়া মে মাসে চীনের রপ্তানি আয় রেকর্ড ১৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীনের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ‘দ্বিমুখী গতিতে’ চলছে। একদিকে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার চরম ঘাটতি। সরবরাহ এবং চাহিদার এই তীব্র অসঙ্গতি দূর করতে বেইজিংকে দ্রুত নতুন কোনো বড় অর্থনৈতিক নীতি বা বেলআউট প্যাকেজ ঘোষণা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এই পদক্ষেপগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।