ওয়াজউদ্দিন মাতুব্বর স্মৃতি গোল্ডকাপের ফাইনালে মুখরিত মাদারীপুর স্টেডিয়াম

দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে হাজারো দর্শকের পদচারণা আর উচ্ছ্বাসে আবারও প্রাণ ফিরে পেল মাদারীপুর জেলা স্টেডিয়াম। শনিবার বিকেলে আয়োজিত ওয়াজউদ্দিন মাতুব্বর স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে স্টেডিয়ামটি এক উৎসবের মিলনমেলায় পরিণত হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এই ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কুলপদ্দী মডেল ক্লাব ও চরমুগুরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে নির্ধারিত ৭০ মিনিটের প্রথমার্ধে করা একমাত্র গোলের সুবাদে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কুলপদ্দী মডেল ক্লাব। গোল হজমের পর চরমুগুরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালালেও সফল হতে পারেনি। খেলা শেষে কুলপদ্দী মডেল ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের দৃষ্টিনন্দন নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। দীর্ঘ সময় পর স্টেডিয়ামে এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ ফিরে আসায় ক্রীড়াপ্রেমীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দর্শকদের করতালি, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর সমর্থকদের স্লোগানে পুরো স্টেডিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে।

খেলা শেষে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। তিনি বলেন, ক্রীড়াচর্চা তরুণ সমাজকে সুস্থ, শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন ও ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে জেলার ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ডা. মো. গোলাম সারোয়ার, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মর্তুজা আলম ঢালী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ এবং মো. হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আহ্বায়ক মর্তুজা আলম ঢালী জানান, জেলার ফুটবলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা, নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।