কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই কোডার ও প্রোগ্রামারদের জন্য একটি নতুন মিনি কিবোর্ড তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। এই হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ওপেনএআইয়ের কোডিং প্ল্যাটফর্ম ‘কোডেক্স’ ও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ডেভেলপার অ্যাকাউন্টে একটি প্রচারণামূলক ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই নতুন পণ্যের বিষয়টি সামনে এনেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা কিবোর্ডটিতে তাদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় শর্টকাটগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে পারছেন। পরবর্তীতে একটি বোতাম চাপার মাধ্যমেই সেগুলো কোডেক্স প্ল্যাটফর্মে দ্রুত কার্যকর করা যাবে, যা সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ কিবোর্ড নয়, বরং ওপেনএআইয়ের দীর্ঘমেয়াদী হার্ডওয়্যার কৌশলের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে এআইনির্ভর নতুন ডিভাইস তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।
ওপেনএআই বর্তমানে এজিআই বা মানুষের মতো সক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটির বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন, কম্পিউটিং শক্তি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক ফিউশন থেকে প্রাপ্ত শক্তির প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই হার্ডওয়্যার বাজারে আনার পেছনে দুটি বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, এআই শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবেলায় নিজেদের ব্র্যান্ডিং ও অবস্থান সুসংহত করা। দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যারনির্ভর এআই থেকে বেরিয়ে বাস্তব হার্ডওয়্যারনির্ভর অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যাওয়া।
এর আগে গত বছর ওপেনএআই অ্যাপলের সাবেক প্রধান ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে নতুন এআই হার্ডওয়্যার তৈরির বিষয়ে যৌথ ঘোষণার কথা জানিয়েছিল। যদিও সেই ডিভাইস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রযুক্তি মহলে গুঞ্জন রয়েছে, সেটি হয়তো গলার লকেট বা বহনযোগ্য কোনো এআই সহকারী হতে পারে, যাতে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন থাকবে। তবে এমন উন্নত হার্ডওয়্যার তৈরির জন্য ওপেনএআইকে বড় ধরনের উৎপাদন সক্ষমতা বা অভিজ্ঞ নির্মাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়তে হবে। সেই বড় লক্ষ্যের পথে এই মিনি কিবোর্ডকে একটি ছোট ও পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে মেটা স্মার্ট চশমা এবং অ্যাপল ক্যামেরাসংযুক্ত এয়ারপডস নিয়ে কাজ করছে। তবে এআই টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ এখনো স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের ওপরই নির্ভরশীল। নতুন এই হার্ডওয়্যারগুলো ভবিষ্যতে মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

