বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আসর থেকে বিদায় করে দেওয়ার পর নরওয়ে ফুটবল দল ও তাদের সমর্থকরা ‘ভাইকিং রো’ নামক এক বিশেষ উদযাপনে মেতে উঠেছেন। এই উদযাপনের দৃশ্যটি ফুটবল বিশ্বে এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘ভাইকিং রো’ হলো এমন এক ধরনের উদযাপন, যেখানে একদল মানুষ মাটিতে বা আসনে বসে শরীর সামনে-পেছনে দুলিয়ে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করেন। একজন ড্রামারের তালে তালে এই গতির সমন্বয় করা হয় এবং প্রতি দুই বিট পরপর সমবেত কণ্ঠে সমর্থকরা ‘রো’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
নরওয়ের ভাইকিং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মূলত এই উদযাপনের প্রচলন হয়েছে। ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নরওয়ে ছিল ভাইকিংদের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি, যা আধুনিক নরওয়ে রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয়ের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এই উদযাপনের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত ওলে ফ্রয়স্তাদ। তিনি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার সমর্থকগোষ্ঠীর সাথে এটি শুরু করেন। শুরু থেকেই এটি দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছিল, তবে বিশ্বকাপ শুরুর পর ‘ভাইকিং রো’ বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে ওঠে। এই জনপ্রিয়তার কারণে ওলে ফ্রয়স্তাদকে ‘মিস্টার রো রো’ নামে ডাকা হয়।
বর্তমানে এই উদযাপন শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নরওয়ের ফুটবলাররাও এতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে এবং শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর দলের তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ড ও মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের নিয়ে এই উদযাপনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সম্প্রতি ইনসাইড ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলে ফ্রয়স্তাদ বলেন, মানুষকে একসঙ্গে একই তালে বৈঠা চালানোর ভঙ্গি করতে দেখাটা দারুণ আনন্দের। এটি একটি ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। তিনি আরও জানান, ভাইকিং রো তার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

