অনেকেই ভুলবশত মনে করেন যে শুধুমাত্র অ্যালকোহল পানের মাধ্যমেই লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এবং দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত পান করা কিছু জনপ্রিয় পানীয় লিভারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় গ্রহণ। লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ তিনটি পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
গরমের সময় তৃষ্ণা মেটাতে অনেকে কার্বনেটেড কোমল পানীয় পান করেন। এসব পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ থাকে, যা শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে। এসব পানীয় নিয়মিত পান করলে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
প্যাকেটজাত ফলের রসকেও অনেকে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পানীয়তে আসল ফলের পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং এতে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম ফ্লেভার, রং ও সংরক্ষণকারী উপাদান মেশানো হয়। ফলে তাজা ফলের মতো আঁশ বা পুষ্টিগুণ এতে পাওয়া যায় না। নিয়মিত এসব পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার আশঙ্কা তৈরি করে।
ক্লান্তি দূর করতে বা কাজের গতি বাড়ানোর আশায় অনেকেই এনার্জি ড্রিঙ্কসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এসব পানীয়তে উচ্চমাত্রার চিনি, ক্যাফিন এবং বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করলে লিভারের ওপর বিপাকীয় চাপ বাড়ে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
লিভার ভালো রাখতে শুধু অ্যালকোহল বর্জন করাই যথেষ্ট নয়, বরং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় গ্রহণ কমাতেও হবে। এর পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি পান, তাজা ফল, ঘরে তৈরি চিনিমুক্ত লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, লিভারের ক্ষতি অনেক সময় নীরবে শুরু হয়, তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট খাদ্যাভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় ধরনের লিভার সমস্যার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

