অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে যখন ১-১ সমতায় ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং সুইজারল্যান্ডের দশজনের রক্ষণভাগ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল, ঠিক তখনই ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দূরপাল্লার শটটি জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়। এই গোলটি কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে এবং আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করে। পরবর্তীতে লাউতারো মার্তিনেজের আরও একটি গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের। ম্যাচের প্রথমার্ধে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেও ৬৭ মিনিটে দান এনদোয়ে সুইজারল্যান্ডের হয়ে সমতা ফিরিয়েছিলেন।
হুলিয়ান আলভারেজের জন্ম ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার কর্দোবা প্রদেশের কালচিন শহরে। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তার অসীম ভালোবাসা এবং ক্ষিপ্রতার কারণে তিনি ‘লা আরানিয়া’ বা মাকড়সা নামে পরিচিতি পান। রিভার প্লেটের যুব কাঠামো থেকে উঠে আসা আলভারেজ ২০১৮ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক করেন। এরপর ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে ২০২৪ সালে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন, যেখানে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। ১৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই ফরোয়ার্ডের প্রধান শক্তির জায়গা তার বুদ্ধিদীপ্ত খেলা, গতি এবং মাঠের সঠিক জায়গা খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা।
তার অর্জনের ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। রিভার প্লেটের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। বর্তমান বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশনে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য আলভারেজের এই গোলটি কেবল একটি স্কোরবোর্ডের সংখ্যা নয়, বরং কোটি মানুষের স্বপ্নের এক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত কানসাস সিটি স্টেডিয়াম। উল্লাসে ভেসে গেল আর্জেন্টিনা। যে গোল শুধু স্কোরলাইন ২-১ করেনি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খুলে দিয়েছিল সেমিফাইনালের দরজা। পরে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
