সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, জনগণের আস্থার ওপর দিলেন গুরুত্ব

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও তা প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-বারেল সিস্টেমের কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করেন। এসময় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কৌশল ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশে যান। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তাদের উৎসাহ প্রদান করেন। এমনকি তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে সময় কাটান এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তাদের কথা শোনেন। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি সেনা পরিবারে বড় হওয়ার কারণে সেনাসদস্যদের সান্নিধ্যে এলে তিনি শৈশবে ফিরে যাওয়ার মতো অনুভূতি পান।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবেলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বরাবরই পেশাদারিত্ব, সাহস ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং আত্মত্যাগের প্রশংসা করে এই মর্যাদা ও আস্থা ধরে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বজুড়ে আরও বেশি সুনাম ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্য সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

পরিদর্শনের সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।