দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার ১৫ জুলাই ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল অঙ্গীকার। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৫ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী দর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের সেই ভিত্তিকে বর্তমান সরকার আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করছে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো যুবসমাজ। তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতার যথাযথ বিকাশ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শিল্পমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতার মানোন্নয়ন, অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং জাতীয় ও বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকারি, বেসরকারি ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পরিশেষে, বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬ দক্ষতা উন্নয়ন সচেতনতা বৃদ্ধি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভিযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din