নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘায়িত

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে সচিব কমিটি। এই কমিটি সরকারের কাছে সুপারিশমালা পেশ করবে, যার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সুপারিশ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে আবারও বৈঠকে বসবে কমিটি।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটির মতে, চলমান আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানো সরকারের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে। আইএমএফ মূলত অর্থের সংস্থানের উৎস নিশ্চিত না করে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আন্তরিক। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরেও নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা ও পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধার জন্য প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে।

সচিব কমিটির আলোচনায় নতুন পে-স্কেলের ২০টি গ্রেড নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্রেডের সংখ্যা পরিবর্তন বা বেতন কাঠামোতে কাটছাঁট করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, কমিটি তাদের মতো করে কাজ করছে এবং সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মূলত ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ না করে দেশের রাজস্ব, বাজেট ঘাটতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন খসড়া তৈরির কাজ করছে। যদিও নতুন পে-স্কেল পয়লা জুলাই থেকে কার্যকর দেখিয়ে বেতন-ভাতাদি প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য সুবিধাদি কার্যকর করা হবে, যা বাস্তবায়নে সচিব কমিটি প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত