ভারতে কর্মসংস্থান ও পরীক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণদের ‘ককরোচ’ আন্দোলন

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়ে প্রতিদিনের মতো নতুন দিনের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা। এই ক্যাম্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৫৯ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়লেও তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। ওয়াংচুক বলেন, ‘যদি অনশন না করি, তবে কী করব? রাস্তায় দাঙ্গা করব? আমরা তা চাই না। তাই সরকারের কাছে নিজের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়ার এটিই আমাদের শান্তিপূর্ণ উপায়।’

দুই মাস আগে অনলাইনে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই যুব-আন্দোলনটি এখন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মূলত প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এই সংগঠনের উত্থান। মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করার পর, আন্দোলনকারীরা এই অপমানজনক শব্দটিকে নিজেদের শক্তির প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্রচারণায় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ২১ মিলিয়নের বেশি অনুসারী যুক্ত হয়।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষার ফলাফলের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে জানান, সরকারের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘সরকার সোনম ওয়াংচুককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’

দিল্লিতে অবস্থিত এই প্রতিবাদ ক্যাম্পে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ জমায়েত হন, যা সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১ হাজারে পৌঁছায়। বর্ষার বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন। এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং এখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজ খরচে দিল্লিতে এসে যোগ দিচ্ছেন। ৩৩ বছর বয়সী আইটি পেশাজীবী অজয় জিঙ্গেড জানান, কেবল শিক্ষার্থী নন, পেশাজীবীরাও এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন কারণ তারা মনে করেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আর স্বচ্ছ নয়।

আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিরোধী দলের নেতা এবং বলিউড তারকারাও ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তবে মোদী সরকার এখন পর্যন্ত তাদের দাবির বিষয়ে কোনো আলোচনা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। উল্টো শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। সরকারের এই নীরবতায় আন্দোলনকারীরা আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা। অভিজিৎ ডিপকে দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘সরকার ভেবেছিল আমরা বাচ্চারা, হয়তো বাড়ি ফিরে যাব। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে এটি একটি দীর্ঘ লড়াই।’